ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড পরিচিতি

  • ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড পরিচিতি: নতুনদের জন্য এ টু জেড (A to Z) গাইডলাইন

ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার পর আমাদের সামনে যে ইন্টারফেসটি আসে, সেটাই হলো ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড বা ব্যাক-এন্ড (Back-end)। এটিকে একটি ওয়েবসাইটের “নিয়ন্ত্রণ কক্ষ” বা “ইঞ্জিন” বলা চলে। এখান থেকেই ওয়েবসাইটের ডিজাইন পরিবর্তন, নতুন লেখা পোস্ট করা, প্লাগইন ইনস্টল করাসহ সব কাজ করা হয়।

আজকের ব্লগে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডের প্রতিটি অপশন এবং এর খুঁটিনাটি সহজ ভাষায় আলোচনা করব।

১. ড্যাশবোর্ডে লগইন করার নিয়ম

সাধারণত যেকোনো ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে হলে আপনার ডোমেইন নামের শেষে /wp-admin যোগ করতে হয়।

যেমন: [www.yourwebsite.com/wp-admin](https://www.yourwebsite.com/wp-admin) এখানে আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই মূল ড্যাশবোর্ডটি দেখতে পাবেন।

২. ড্যাশবোর্ডের মূল অংশসমূহ (The Main Sections)

লগইন করার পর স্ক্রিনের বাম পাশে একটি লম্বা মেনুবার দেখতে পাবেন। এটিই হলো মূল নেভিগেশন মেনু। চলুন এর ভেতরের প্রতিটি অপশনের কাজ বিশদভাবে জেনে নেওয়া যাক:

ক) হোম এবং আপডেট (Dashboard -> Home / Updates)

  • Home: এখানে ওয়েবসাইটের একটি সার্বিক চিত্র বা ওভারভিউ (যেমন: কয়টি পোস্ট আছে, কোনো কমেন্ট এসেছে কিনা) সংক্ষেপে দেখা যায়।
  • Updates: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার সাইটের ওয়ার্ডপ্রেস ভার্সন, থিম বা প্লাগইনগুলোর কোনো নতুন আপডেট আসলে তা এখানে দেখায়। সাইটের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত এগুলো আপডেট রাখা জরুরি।

খ) পোস্ট (Posts) — ব্লগ পরিচালনার মূল জায়গা

আপনি যদি সাইটে নিয়মিত আর্টিকেল বা খবর প্রকাশ করতে চান, তবে এই অপশনটি ব্যবহার করতে হবে। এর অধীনে ৪টি সাব-মেনু থাকে:

  • All Posts: সাইটের এ পর্যন্ত তৈরি করা সব পোস্টের তালিকা।
  • Add New Post: নতুন কোনো ব্লগ বা আর্টিকেল লেখার জন্য এখানে ক্লিক করতে হয়।
  • Categories: পোস্টগুলোকে বিভিন্ন গ্রুপ বা বিভাগে ভাগ করার জন্য (যেমন: প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিনোদন)।
  • Tags: পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক ছোট ছোট কি-ওয়ার্ড যুক্ত করার জায়গা।

গ) মিডিয়া (Media) — ছবি ও ভিডিওর ঘর

ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত সমস্ত ছবি, অডিও, ভিডিও বা পিডিএফ ফাইল এখানে জমা থাকে।

  • Library: আগে আপলোড করা সব মিডিয়া ফাইলের তালিকা।
  • Add New: কম্পিউটার থেকে নতুন কোনো ছবি বা ফাইল সাইটে আপলোড করার জন্য।

ঘ) পেজ (Pages) — ওয়েবসাইটের স্থায়ী পাতা

ব্লগ পোস্টের বাইরে ওয়েবসাইটের কিছু স্থায়ী পেজ থাকে, যা সাধারণত পরিবর্তন হয় না। যেমন: Home, About Us, Contact Us, Privacy Policy ইত্যাদি। ‘Add New Page’-এ ক্লিক করে নতুন পেজ তৈরি করা যায়।

পার্থক্য মনে রাখুন: ‘Post’ হলো নিয়মিত আপডেট হওয়া ব্লগের জন্য, আর ‘Page’ হলো ওয়েবসাইটের স্থায়ী কাঠামোর জন্য।

ঙ) কমেন্টস (Comments) — পাঠকের মতামত

আপনার ব্লগে পাঠকরা যে সমস্ত মন্তব্য বা কমেন্ট করবেন, তা এখানে জমা হবে। আপনি এখান থেকে যেকোনো কমেন্ট অ্যাপ্রুভ (Approve) করতে পারেন, ডিলিট করতে পারেন কিংবা স্প্যাম (Spam) হিসেবে মার্ক করে দিতে পারেন।

৩. সাইটের রূপান্তর ও কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ (Design & Functionality)

চ) অ্যাপিয়ারেন্স (Appearance) — সাইটের ডিজাইন ও থিম

একটি ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে এই অ্যাপিয়ারেন্স অপশনের ওপর।

  • Themes: এখান থেকে আপনি সাইটের জন্য নতুন ডিজাইন বা থিম ইনস্টল ও অ্যাক্টিভ করতে পারবেন।
  • Customize: থিমের রং, লোগো, ফন্ট এবং লেআউট লাইভ পরিবর্তন করার অপশন।
  • Menus: ওয়েবসাইটের ওপরের বা নিচের অংশে যে নেভিগেশন মেনু থাকে (যেমন: হোম, ব্লগ, যোগাযোগ), তা এখান থেকে সাজাতে হয়।

ছ) প্লাগইন (Plugins) — সাইটের অতিরিক্ত ক্ষমতা

প্লাগইন হলো ছোট ছোট সফটওয়্যার যা আপনার সাইটে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করে। যেমন: সাইটের ডিজাইন সহজ করতে এলিমেন্টর (Elementor), কিংবা এসইও করতে Yoast SEO প্লাগইন।

  • Installed Plugins: আপনার সাইটে বর্তমানে কী কী প্লাগইন আছে তা দেখার এবং অ্যাক্টিভ/ডিঅ্যাক্টিভ করার জায়গা।
  • Add New Plugin: ওয়ার্ডপ্রেস ডিরেক্টরি থেকে হাজার হাজার ফ্রি প্লাগইন সার্চ করে ইনস্টল করার অপশন।

৪. ইউজার ও সেটিংসবক্স (Users, Tools & Settings)

জ) ইউজারস (Users) — টিম ম্যানেজমেন্ট

আপনার সাইটে যদি একাধিক লেখক বা ডেভেলপার কাজ করেন, তবে তাদের আলাদা ইউজার আইডি তৈরি করে দেওয়া যায়। এখান থেকে তাদের রোল বা ক্ষমতা (যেমন: Administrator, Editor, Author, Contributor) নির্ধারণ করা সম্ভব।

ঝ) টুলস (Tools) — ডেটা আদান-প্রদান

অন্য কোনো সাইট থেকে কন্টেন্ট ইমপোর্ট (Import) করা বা নিজের সাইটের ডেটা এক্সপোর্ট (Export) করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সাইটের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ‘Site Health’ অপশনটি এখানে থাকে।

ঞ) সেটিংস (Settings) — সাইটের মূল কনফিগারেশন

এটি ওয়ার্ডপ্রেসের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। এর ভেতরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস রয়েছে:

  • General: সাইটের নাম (Site Title), ট্যাগলাইন এবং টাইমজোন পরিবর্তন করার জন্য।
  • Reading: হোমপেজে কি লেটেস্ট ব্লগ দেখাবে নাকি কোনো নির্দিষ্ট পেজ দেখাবে, তা এখান থেকে ঠিক করা হয়।
  • Permalinks (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): আপনার পোস্টের লিংক বা ইউআরএল (URL) কেমন হবে তা এখান থেকে ঠিক করতে হয়। এসইও (SEO)-র সুবিধার জন্য এটি সবসময় “Post name” সিলেক্ট করে রাখা উচিত।

পরিশেষে, প্রথমবার দেখলে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড একটু জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু ২-৩ দিন একটু নাড়াচাড়া করলেই এটি একদম সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে পেজ এবং পোস্টের তফাত বুঝে, সেটিংসের পারমালিংক ঠিক করে নিলে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

          ব্লগটি ভাল লাগলে লাইক করুন, কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।

ফলো করুন ফেইজবুক পেইজে


শেয়ার করুন

Facebook
X
LinkedIn

Scroll to Top